রাতে শরীর নিয়ে লুকিয়েছিলাম আমবাগানে

Staff Reporter

‘রাতে শরীর নিয়ে লুকিয়েছিলাম আমবাগানে’ ।। ভাঙড়ের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চান নওশাদ সিদ্দিকি

মঙ্গলবার রাতে গুলি, বোমায় উত্তাপ হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। মুহুর্মুহু গুলি আর বোমায় রণক্ষেত্রের চোহারা নেয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই এলাকা। সেই সময়েই গুলিবিদ্ধ হন আইএসএফ কর্মী রেজাউল গাজি।

ভাঙড়ের গন্ডগোলে মঙ্গলবার রাতেরবেলা গুলিবিদ্ধ হয়ে মরণ হয়ে গিয়েছে আইএসএফ কর্মী রেজাউল গাজির। দেহ বাড়িতেই রয়েছে। পুলিশ নিতে এলে রেজাউলের ফেমেলি দেহ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য করে। পরিবারের দাবি, ‘ভাইজান’ (নওশাদ সিদ্দিকি) এসে যা ডিসিশন নেওয়ার নেবেন। যদিও নওশাদ নিজে রেজাউলের বাড়িতে আসেননি। আইএসএফের দু’জন এজেন্টকে রেজাউলের বাড়িতে পাঠান। কেবল তাই-ই নয়, রেজাউলের বাবার সাথে নওশাদ নিজে ফোনে কথাও বলেন। পাশাপাশি, ভাঙড়ে ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক। রাজ্যপালের দৃষ্টি মমতা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ‘ভাইজানের’ সাথে কথা বলার পর, পরিজন ডিসিশন নিয়েছে রেজাউলের দেহ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আইএসএফের এক এজেন্ট জানিয়েছেন, রেজাউলের বাবা-মা কথা দিয়েছেন, ন্যায়বিচারের জন্য তাঁরা পুত্রের দেহ পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ অ্যাম্বুল্যান্স আসে দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য। সাড়ে ৬টা নাগাদ রেজাউলের শরীর নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার রাত্রিতে গুলি, বোমায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। মুহুর্মুহু গুলি আর বোমায় রণক্ষেত্রের চোহারা নেয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই এলাকা। রাত তখন ১১টা। আইএসএফ প্রার্থী বিজয় লাভ করে যাওয়ায় কাঁঠালিয়া থেকে মিছিল বার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আইএসএফ কর্মীরা। সেখানে জমায়েতও হয়েছিলেন তাঁরা। সেই মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য ভোগালিয়া গ্রাম থেকে গিয়েছিলেন আএইএসএফ সমর্থক জাইরুল গাজি, তাঁর ভাইয়া রেজাউল এবং এইরকম কতিপয় জন। এক বছরেরও কতিপয় অধিক সময় বিয়ে হয়ে গিয়েছে রেজাউলের।

Advertisement

তাঁর চার মাসের এক কন্যাসন্তান আছে। রেজাউল ব্যাগ তৈরির কাজ করতেন। গত রাত্রিতে কাঁঠালিয়ায় হঠাৎই গোলযোগ চালু হওয়ায় যে যে দিকে পেরেছেন পালিয়েছিলেন। জাইরুল জানান, ওই গোলাগুলির মাঝে হঠাৎই একটা চিৎকার শুনতে পান তিনি। পিছনে ফিরে দেখেন ভাইয়া মাটিতে পড়ে আছেন। তখন আতঙ্কে সকলেই লুকোনোর চেষ্টা করছিলেন। তাঁর কথায়, “আমরাও নিজেদের বাঁচাতে দূরে আসি। ভাইকে পড়ে থাকতে দেখলাম। অথচ উপায় ছিল না ওরে তুলে আনার। মুহূর্তেই চারদিক ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। আমরা পাঁচ জন ছিলাম শুধু।”

জাইরুল আরও জানিয়েছেন, কোনও রকমে ভাইকে উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু তত ক্ষণে তাঁর মরণ হয়। জাইরুল বলেন, “আমরা পাঁচ জন মিলে একটা আমবাগানে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেখান থেকে বাড়িতে ফোন করে ভাইয়ের মৃত্যুর খোজ-খবর জানাই।” অথচ ওই ভাবেই আমবাগানে ভাইয়ের শরীর সমেত কতিপয় ঘণ্টা চুরি করে ছিলেন প্রাণভয়ে। জাইরুলের দাবি, ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে আনা হয়। তা সত্ত্বেও কেউ আসতে চায়নি। কী ভাবে ভাইয়ের দেহ নিয়ে যাওয়া হবে তা নিয়ে একের পর এক জায়গায় ফোন করার জন্য থাকেন। শেষমেশ ফোনের চার্জও চলে যায়। জাইরুল বলেন, “এর পর ১টি বাইকে করে রেজাউলের দেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।” মঙ্গলবার রাত থেকেই ভোগালি গ্রামের বাড়িতে বিদ্যমান রেজাউলের দেহ। পরিবারের বিশ্বাস, এর সুবিচার করবেন বিধায়ক নওশাদ। তাঁর ভরসাতেই তাকিয়ে ছিল সমগ্র পরিবার। রেজাউল বলেন, “বাড়িতে ২০০ পুলিশ এসেছিল। দেহ নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা দিইনি। ভাইজানের অপেক্ষায় ছিলাম। ভাইজান তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সেই মতো সব হচ্ছে।”

আরও পড়ুন

Latest articles

Leave a Comment

%d bloggers like this: