জয়েন্টের র‌্যাঙ্ক জাল করে উল্টো অভিযোগ হাই কোর্টে

Staff Reporter

জয়েন্টের র‌্যাঙ্ক জাল করে উল্টো অভিযোগ হাই কোর্টে, এজলাসে বসেই পড়ুয়ার ‘কীর্তি’ ধরলেন বিচারপতি

বুধবার এই মামলা ওঠে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে। জয়েন্ট পরীক্ষার্থী আদালতকে জানান, জয়েন্ট পরীক্ষার ফলাফল বেরনোর পর তিনি নিজের যে র‌্যাঙ্ক দেখেছিলেন, তা দিন কতিপয় পরে সহসা বদলে যায়।

জয়েন্ট এন্ট্রান্সের র‌্যাঙ্ক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনই অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন এক জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার্থী। সেই মামলার শুনানির পর সিবিআই তদন্তের কথা বলেও ফেলেছিলেন বিচারপতি। হঠাৎই সিচুয়েশন বদলায়। লক্ষ্য যায় সর্ষের মধ্যেই ভূত। শেষে এজলাসে বসে বসেই রহস্যের সমাধান করেন হাই কোর্টের বিচারপতি।

বুধবার এই মামলা ওঠে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে। জয়েন্ট পরীক্ষার্থী অজয় (নাম পরিবর্তিত) আদালতকে জানান, উনি রানিং বছরেই জয়েন্টে বসেছিলেন। তা সত্ত্বেও রেজাল্ট বেরনোর পর কিউআর কোড স্ক্যান করে উনি প্রথমে নিজের যে র‌্যাঙ্ক দেখেছিলেন, তা দিন অল্পসংখ্যক পরে হঠাৎ বদলে যায়। অজয় উকিল দাবি করেন, উনি যখন প্রথমে ওয়েবসাইটে নিজের র‌্যাঙ্ক দেখেন সেই সময় তার জিএমআর বা জেনারেল মেরিট র‌্যাঙ্ক ছিল ১৬ তার সাথে পিএমআর বা ফার্মাসি মেরিট র‌্যাঙ্ক ছিল ২৪। অথচ পরে উনি যখন আবার নিজের র‌্যাঙ্ক পরীক্ষা করেন সেই সময় লক্ষ্য যায় তার জিএমআর হয়েছে ১৪৩৯ এবং পিএমআর ৩২৮৫। এই বদল কী করে হল, তা জানতে চেয়েই রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের বিরুদ্ধে উকিল মামলা করেন অজয়। তা সত্ত্বেও শুনানি এগোতেই লক্ষ্য গেল মামলার গোড়ায় গলদ। সর্ষের মধ্যেই চুরি করে রয়েছে ভূত।

Advertisement

রাজ্যে এই মুহূর্তে একের পর এক নিয়োগের এক্সামে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা ঘটছে আদালতে। সেই পরীক্ষাতেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে র‌্যাঙ্ক পিছিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্সের মতো বড় পরীক্ষাতেও র‌্যাঙ্ক পিছিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তাই বাড়তি দেন বিচারপতি চন্দ। তিনি জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের আইনজীবীর নিকট জানতে চান, কেন এই মামলায় সিবিআই তদন্ত দেওয়া হবে না? এর পরই বোর্ডের পাল্টা আদালতকে জানান, পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রে থাকা কিউ আর কোড স্ক্যান করে তাঁর র‌্যাঙ্ক দেখতে। কারণ উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীর হস্তাক্ষর রয়েছে। সেটা নকল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এজলাসে বসেই নিজেই স্মার্টফোনে কিউআর কোড স্ক্যান করেন বিচারপতি চন্দ। শুধু নিজের নয়, আইনজীবীর ফোন থেকেও স্ক্যান করানো হয় কিউআর কোড। আর তার ফল দেখে বিস্মিত হয়ে যান বিচারপতি চন্দ। দেখা যায়, দ্বিতীয়বার যে র‌্যাঙ্ক পরীক্ষার্থী দেখেছিলেন, সেটাই ঠিক। যার পর পরীক্ষার্থীকেই পাল্টা প্রশ্ন করতে আরম্ভ করেন বিচারপতি। উকিল বিচারপতির প্রশ্নের মুখে ভেঙে পড়েন ওই পরীক্ষার্থী।

অজয় বিচারপতির নিকট স্বীকার করে নেন, তিনিই র‌্যাঙ্ক জনিত ডাউনলোডেড দলিল জালিয়াতি করেছিলেন এবং আইনজীবী মিথ্যা জনরব কমপ্লেইন করেছেন। যা শুনে মামলাটি পরিত্যক্ত করে দেন বিচারপতি চন্দ। তবে মামলা খারিজ করলেও ওই মিথ্যা মামলাকারী ছাত্রের বিপক্ষে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা হয়নি। যে নিমিত্ত অজয় এখনও ছাত্র, এইজন্য তাঁর বিপক্ষে বিরূপ পদক্ষেপ না করার জন্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডকেও বায়না করেছেন বিচারপতি।

Advertisement

আরও পড়ুন

Latest articles

Leave a Comment

%d bloggers like this: