আদালতের লড়াই ‘মেটার পথে’

Staff Reporter

আদালতের লড়াই ‘মেটার পথে’, পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে এ বার সম্মুখসমরে রাজভবন-তৃণমূল

পঞ্চায়েত ভোটের আবহে এ বার শাসকদল বনাম রাজ্যপাল সঙ্ঘাতের পরিবেশ তৈরি হল। নির্বাচনের আগে দ্বেষ নিয়ে কমিশনকে মেসেজ দিয়েছেন রাজ্যপাল। অন্য দিকে, রাজ্যপালের বিরুদ্ধেই কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল।

সাধারণ মানুষের রক্ত দিয়ে ‘রাজনৈতিক হোলি’ খেলা-ধুলা অফ করার মেসেজ দিলেন রাজ্যপাল সিভি মজা বোস। রাজ্যে পঞ্চায়েত ইলেকশনের প্রথমে সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। সেখান হতে এই বার্তার একসাথে দ্বেষ বন্ধে কঠিন স্টেপ করার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি। ঘটনাচক্রে, সোমবারই রাজ্যপালের বিপক্ষে রাজ্য ইলেকশনে ডিস্কাউন্টে গেল তৃণমূল। তাদের দাবি, ভোট ঘোষণার পর অনুকরণীয় আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বোস। যার ফলে পঞ্চায়েত ভোটের প্রথমে শাসকদল বনাম রাজ্যপালের সঙ্ঘাত হতে তীব্রতর হল বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্য দিকে, পঞ্চায়েত ভোটের অবশিষ্ট মাত্র আর চার দিন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একের অধিক মামলা প্রায় গুটিয়ে এনেছে আদালত। এ বছর গ্রাম পঞ্চায়েতের সেই সকল প্রার্থীর হলফনামাও প্রকাশ করতে হবে বলে আদেশ দিয়েছে হ্যালো কোর্ট। সোমবার হ্যালো কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিংহের বেঞ্চ জানায়, কেবল পঞ্চায়েত সমিতি বা জেলা পরিষদের প্রার্থীদের হলফনামা পাবলিশ করলেই হবে না, সব গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থীর হলফনামাও প্রকাশ্যে আনতে হবে। পঞ্চায়েত ইলেকশনের আগে প্রধারনত পঞ্চায়েত কমিটি এবং জেলা পরিষদের প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করে কমিশন। পঞ্চায়েতের প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করা হয় না। গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রার্থীর পরিমান প্রচুর বহু হওয়ার কারণেই হলফনামা দেয় না কমিশন। তাদের যুক্তি, ভোটের প্রথমে স্বল্প সময়ে এত প্রার্থীর হলফনামা দেওয়া সম্ভব নয়।

Advertisement

বিরোধীদের দাবি এবং কলকাতা হ্যালো কোর্টের নির্দেশ মেনে সমাপ্ত পর্যন্ত পঞ্চায়েত ভোটের জন্য রাজ্যে একটানা ৮২২ সংগঠন কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে চলছে। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই ঘোষণাকে ‘বিরোধীদের জয়’ হিসাবে দেখা যেতে পারে। পঞ্চায়েত সম্পর্কিত আরও একটি মামলা আছে। ভোটগ্রহণের দফা বাড়ানোর জন্য আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির অ্যাপ্লাই সোমবার করেছে কলকাতা হ্যালো কোর্ট। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আকুল চৌধুরীর আবেদন-সহ দফা জনিত কিছু মামলা এখনও হাই কোর্টের বিচারাধীন। মঙ্গলবার তার শুনানি। অথচ সোমবার কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর নির্দেশের পর কমিশন মনে করছে, ভোটের চার দিন আগে দফা বাড়ানোর আদেশ দেবে না হ্যালো কোর্ট। সে ক্ষেত্রে মায়া বন্দ্যোপাধ্যারের সরকারের ‘জয়’ বলে ইহাকে নোটিশ যেতে পারে। কারণ, বিরোধীরা একাধিক দফায় ইলেকশন দাবি করলেও রাজ্য বরাবরই এক দফায় ইলেকশন চেয়েছে। এর মধ্যেই শাসকদল বনাম রাজ্যপালের সঙ্ঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হল।

২০২১ বর্ষের বিধানসভা ভোটের টাইম তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বনাম শাসকদলের সঙ্ঘাত বার বার সম্মুখে এসেছে। এ বার পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যপাল বোসের সঙ্গে তৃণমূলের কলহ আরম্ভ হল। তৃণমূলের পক্ষে রাজ্যপালকে নিয়ে বেশ কতিপয় নালিশ জানানো হয়েছে কমিশনকে। তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে নির্বাচনী অনুকরণীয় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ। দ্বিতীয় নালিশ এইরকম চড়া। সেখানে বলা হয়েছে, রাজ্যের গেস্ট হাউস, সার্কিট হাউস ব্যবহার করে বিজেপির সঙ্গে বৈঠক করছেন রাজ্যপাল। সাম্পপ্রতিককালে কোচবিহার সফরে গিয়ে সার্কিট হাউসে ছিলেন তিনি। ওখান রাজ্যের শাসকদলের বিপক্ষে কমপ্লেইন জানাতে উপস্থিত হন বিজেপির প্রতিনিধিরা। রাজ্যপালের সঙ্গে ওখান নোটিশ করে বিজেপির বিধায়কদের একটি দল। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। পাশাপাশি, সোমবার ক্যানিংয়ে সেচ দফতরের বাংলো হতে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যপাল। ওই স্থান তাঁর বক্তব্যের পুরোটা জুড়েই ছিল ভোটের আগে বিদ্বেষ সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনার কথা। তৃণমূলের ৩য় অভিযোগ, রাজ্য বা নির্বাচন কমিশনের সাথে কোনও আলেচনা না করেই বিজেপির লোকজনের সিকিউরিটির জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বৈঠক করছেন বোস।

বস্তুত, সোমবার কোচবিহার থেকে ফিরে বাসন্তীর গাগরামারি গ্রামে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। ওখান অশান্ত এরিয়া পরিদর্শন করেন তিনি। এর পর পৌঁছন ক্যানিংয়ে সেচ দফতরের বাংলোয়। ওখান তাঁর সঙ্গে লক্ষ্য করেন বাসন্তীর গাগরামারি গ্রামে নিহত যুব তৃণমূল সহযোগী জহিরুল মোল্লার মহিলা মনোয়ারা পিয়াদা। বাবার মৃত্যুর জন্য রাজ্যপালের কাছে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে দেন মনোয়ারা। উনি নিজে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে গেছেন এই পঞ্চায়েত ভোটে। তাঁর অভিযোগ, ‘‘মূল কোম্পানি তার সাথে যুব তৃণমূলের দ্বন্দ্বে খুন হয়ে গেছেন বাবা।’’ রাজ্যপালের পা জড়িয়ে উনি বাবার মৃত্যুর ন্যায়বিচার চান। এর পর সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপাল বোস বলেন, ‘‘মানুষের রক্ত নিয়ে রাজনৈতিক হোলি বন্ধ হওয়া উচিত।’’ রাজ্যপালের এই বক্তব্যের পর প্রখর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে শাসকদলও। তাদের অভিযোগ, রাজ্যপাল ১টি বিশেষ রাজনৈতিক টিমের হয়ে কাজ করছেন।

Advertisement

নির্বাচন কমিশনকে মেসেজ রাজ্যপালের

সোমবারই উত্তরবঙ্গ সফর সেরে কলকাতা ফিরেছেন রাজ্যপাল। উনি তিন দিন ‘অশান্ত’ কোচবিহারের নানারকম অঞ্চল ঘুরেছেন। কলকাতায় ফিরে রাজভবনে না-গিয়ে রাজ্যপাল সোজা চলে যান পঞ্চায়েত ভোটের প্রথমে বার বার অশান্ত হওয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। ক্যানিং, বাসন্তী, ভাঙড় পরিদর্শন করেন রাজ্যপাল। সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপাল বলেন, ‘‘রাজ্যের যেখানে যেখানে সন্ত্রাস হয়েছে, ওই জায়গা যাচ্ছি। আমি ক্লিয়ার করে বলতে দরকার যে, আমি কারও ভুল খুঁজতে এই জায়গাগুলোয় যাচ্ছি না। আমি যাচ্ছি, তথ্যতালাশে। কেন এই সন্ত্রাস হচ্ছে, সেটা বুঝতে চাইছি।’’ রাজ্যপাল আরও বলেন, ‘‘আমি রাষ্ট্রের সংবিধান মেনে এবং রাজ্যপালের এক্তিয়ার মেনেই এই কাজ করছি।’’ এর পরেই কমিশনকে টাইম বেঁধে দেন তিনি। রাজ্যপালের কথায়, ‘‘আমার সহকর্মী রাজ্য নির্বাচন কমিশনার আমায় জানিয়েছেন রাজ্যের কতিপয় কিছু জায়গায় এই অশান্তি হচ্ছে। আমিও সেই সন্ত্রাস কবলিত এলাকগুলিতে যাচ্ছি। কেন এই অশান্তি হলো তা বোঝার জন্য। রাজনৈতিক অশান্তি কেন হচ্ছে, কারা বিদ্যমান এই অশান্তির পিছনে, সেগুলি খুঁজে বার করে বিরুদ্ধে অ্যারেঞ্জমেন্ট গ্রহণ করার জন্য হবে।” রাজ্যপালের কথায়, “এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ভিতরে পড়ে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। এটা বন্ধ করার জন্য হবে। ভোটের জন্য আর এক বিন্দু রক্ত যাতে না পড়ে সেটি নিশ্চিত করতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। আমি ইতিমধ্যেই ক্যানিং, ভাঙড়, বাসন্তী, কোচবিহার, দিনহাটা, সিতাই, শিলিগুড়ির মতো সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় গিয়েছি।’’ উনি এইরকম বলেন, “আমি আশ্বাস করি নির্বাচন কমিশন আদালতের আদেশ পালন করবেন। আমি আমার উপলব্ধি জানিয়েছি সহকর্মী নির্বাচন কমিশনার (রাজীব সিংহ)-কে। আমি এ-ও বলেছি, এই অশান্তির পিছনে হেতু মাথা ঠিক কে বা কারা সেটা তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে বার করার জন্য হবে।” রাজ্যপালের এই সফর এবং মন্তব্য প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, ‘‘তিনি যে টিমের অঙ্গুলিহেলনে চলছেন, সেই টিমের নেতাদের রাজভবনে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলুন, সন্ত্রাসের রাজনীতি হতে সরে আসতে।’’

রক্ত নিয়ে রাজনৈতিক হোলি অফ হোক

Advertisement

সোমবার প্রভাতে কোচবিহার থেকে পদাতিক এক্সপ্রেসে শিয়ালদহ পৌঁছন রাজ্যপাল। সেখান হতে সড়কপথে যান ক্যানিংয়ের গাগরামারি গ্রাম। কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। গত অল্পসংখ্যক দিন ধরেই অশান্ত হয়ে উঠে গিয়েছে ওই এলাকা। রাজ্যপালকে নিকট পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি ভাগ তাঁকে জানান, অঞ্চলে বোমাবাজি হচ্ছে। গত শনিবার রাত্রিতে গুলি করে খুন করা হয়ে গিয়েছে গাগরামারি গ্রামের বাসিন্দা জহিরুলকে। রাজ্যপাল যখন গ্রামে যান সেই সময় জহিরুলের ফেমেলির কারও সাথে নোটিশ হয়নি। রাজ্যপাল ক্যানিংয়ের উদ্দেশে রওনা দিতেই নিহতের মেয়ে তথা ওই এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী মনোয়ারা পৌঁছন তাঁর কাছে। তাঁর সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপাল বলেন, ‘‘মানুষের রক্ত নিয়ে রাজনৈতিক হোলি খেলা-ধুলা অফ করার জন্য হবে। আমি হিংসাদীর্ণ নানারকম অঞ্চল ঘুরে দেখেছি। আমি ত্রুটি খুঁজতে নয়, প্রকৃত তথ্য জানতে ওই সব এরিয়া ঘুরেছি।’’

বোমা ফেটে তৃণমূল কর্মীর মরণ হাড়োয়ায়

পঞ্চায়েত ভোটের আবহে আবারও মৃত্যুর ঘটনা। এ বার ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া। সেখানকার শালিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সুড়িপুকুরে পরিতোষ মণ্ডল নামে এক জনের মরণ হয়েছে। সোমবার প্রভাতকালে এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের দাবি, পরিতোষকে খুন করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, রবিবার রাতেই অকস্মাৎ বিস্ফোরণ হয়। তাতে পরিতোষের হাত উড়ে যায়। শরীরের নানারকম জায়গায় বোমার স্‌প্লিন্টারের টুকরো বিঁধে মৃত্যু হয় তাঁর। বিস্ফোরণের ঘটনায় এইরকম চার জন জখম হয়েছেন বলে দাবি পড়শিদের। মৃতের স্ত্রীর দাবি, তাঁর স্বামী তৃণমূলের কর্মী। সেই কারণে বিরোধী পক্ষের লোকেরা তাঁকে প্রচুর দিন ধরেই প্রাণে মারার ট্রাই করছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার স্বামী বোমা বাঁধত না। গানবাজনা করত। বোমা ফেটে এ ভাবে কারও মরণ হয় নাকি! মাথার পিছনটা মেরে ফাটিয়ে দিয়েছে। যখন লাশ নিয়ে আসা হয়েছে, তখনও গলগল করে রক্ত পড়ছিল। দুটো হাত কেটে নিয়েছে। আমার স্বামীর খুনিদের জটিল শাস্তি চাই।’’

Advertisement

পুরুলিয়ায় বিজেপি নেতার রহস্যমৃত্যু

বিজেপি নেতার রহস্যমৃত্যু পুরুলিয়ার মানবাজার এলাকার। সোমবার প্রভাতকালে কেন্দডি গ্রামের কাছে নদীর পাড় হতে বঙ্কিম হাঁসদা নামে ওই বিজেপি কর্মীর শরীর উদ্ধার হয়। পঞ্চায়েত ইলেকশনের আবহে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েন চালু হয়েছে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বঙ্কিমকে খুন করেছে বলে কমপ্লেইন বিজেপির। তৃণমূল অবশ্য সেই নালিশ করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বঙ্কিম মানবাজার-২ ব্লকের হেঁসলা সংসদের কেন্দডি বুথে বিজেপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। জলাভূমি পাড়ে তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখে বোরো থানায় খবর দেন স্থানীয়েরা। ফেমেলির দাবি, রবিবার বিকালবেলা নিজের বাড়ি হতে বেরোন বঙ্কিম। তার পর হতে তাঁর আর কোনও খোঁজ মেলেনি। রাত পর্যন্ত বিজেপি নেতা ঘর না ফেরায় খোঁজখবর করা শুরু করেন ফেমেলির লোকেরা। তা সত্ত্বেও তাঁর হদিস মেলেনি। সোমবার সকালে নদীর ধারে বঙ্কিমকে পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসীরা। এ নিয়ে বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বিবেক রাঙা বলেন, ‘‘আমরা শিওর পঞ্চায়েত ইলেকশনের আগে এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বঙ্কিমকে খুন করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের স্পষ্ট মদত রয়েছে।’’ অন্য দিকে, তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, ‘‘অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তৃণমূল এই ধরনের রাজনীতি করে না।’’

শমসেরগঞ্জে গুলিবিদ্ধ কংগ্রেস কর্মী

Advertisement

মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে রবিবার গুলিবিদ্ধ হন এক কংগ্রেস কর্মী। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হলেন এক তৃণমূল নেতা। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম আশরাফুল হক। তিনি শমসেরগঞ্জের তিনপাকুরিয়া অঞ্চলের ৮৪ নম্বর বুথের তৃণমূল সভাপতি। কংগ্রেস শমসেরগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলামকেই গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটের প্রচার সেরে আলয় ফেরার রাস্তায় মুর্শিদাবাদের ৪ নম্বর জেলা পরিষদ আসনের কংগ্রেস প্রার্থী আনারুল হককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার নালিশ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কংগ্রেসের দাবি, বিধায়ক আমিরুলের উপস্থিতিতে হামলা চালানো হয়েছে। তাতে গুলিবিদ্ধ হন কংগ্রেস কর্মী আরিফ শেখ। সেই ঘটনায় দলীয় নেতা গ্রেফতার হওয়ায় চক্রান্তের ঘ্রাণ পাচ্ছেন আমিরুল। তাঁর দাবি, ভোটের প্রথমে এরিয়া দখল করতে তৃণমূল কর্মীদের গুজব মামলায় ফাঁসানোর ট্রাই হচ্ছে। আমিরুল বলেন, ‘‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আমাকে গৃহবন্দি করে এরিয়া দখলের প্রিপারেশন করা হয়েছে। পুলিশি তদন্তে সব প্রকাশ্যে আসবে।’’

ব্যারাকপুরে বিজেপি প্রার্থীর বাড়ির দূরে নয় বিস্ফোরণ

পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির প্রার্থীর বাড়ির কাছে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের শিউলি সেলামপুরে। সোমবার প্রভাতে ওই এরিয়া হতে উদ্ধার হয় বেশ কিছু তাজা বোমা। সংবাদ পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সেগুলি উদ্ধার করে। বিজেপির অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল। স্থানীয় সূত্রে খবর, শিউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রার্থী শিবানী জানার বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে জোরালো শব্দ হয় রবিবার রাতে। কতিপয় ক্ষণের ভিতরে এরিয়া ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বিজেপি প্রার্থীর স্বামী তথা দলের নেতা অলোক জানা বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এলাকায় সন্ত্রাস তৈরি করতেই এই কাজ করেছে তৃণমূল।’’ শাসকদল অবশ্য এই কমপ্লেইন অগ্রাহ্য করা করেছে। সোমবার তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনারই আমডাঙায়। ওই জায়গা বোদাই পঞ্চায়েত অঞ্চল হতে বস্তা ভর্তি ১৫টি তাজা বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। কে বা কারা এই বোমা মজুত করেছিল, তা স্পষ্ট নয়। বোমা উদ্ধারে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের দুবরাজপুরেও। ওখান যশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পছিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ আলমের বাড়ির হতে এক জ্যারিক্যান তাজা বোমা উদ্ধার করে দুবরাজপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ১৪-১৫টি তাজা বোমা মিলেছে।

Advertisement

মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের উপর হামলা

তৃণমূল কর্মীদের টার্গেট করে বোমা ছোড়ার নালিশ উঠল মুর্শিদাবাদে। রবিবার রাত্রিতে মানিকচক অঞ্চলের বাউরিমারি এরিয়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে শাসকদল। তাদের দাবি, বোমাবাজির জেরে ওঁদের তিন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। তাঁর আজকাল ডাক্তারখানায় চিকিৎসাধীন। কংগ্রেস অবশ্য হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, পঞ্চায়েত ভোটের প্রচার সেরে রাতে আলয় ফিরছিলেন একদল তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। অভিযোগ, সেই সময় টার্গেট করে একের পর বোমা হয়। ঘটনায় তিন তৃণমূল সহযোগী আহত হন। প্রথমে ওঁদের নিয়ে যাওয়া হয়ে গিয়ে ছিল লালগোলা কৃষ্ণপুর হাসপাতালে। কিন্তু দু’জনের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওঁদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

স্কুলের রান্নাঘরের ছাদে মিলল বোমা

Advertisement

পঞ্চায়েত ভোটের প্রথমে আবারও বোমা উদ্ধার বীরভূমে। এ বার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রান্নাঘরের ছাদ হতে পাওয়া গেল বিস্ফোরক। ঘটনাস্থল দুবরাজপুরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আদমপুর গ্রাম। স্থানীয় সূত্রে খবর, গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের মিড ডে মিল যেখানে রান্না হয়, সেই কক্ষের ছাদ থেকে পলিথিনের প্যাকেটে মোড়া চারটি তাজা বোমা পাওয়া গিয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। বোমাগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত চালু হয়েছে।

আবার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার মুর্শিদাবাদে

পঞ্চায়েত ভোটের মুখে আবার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়ে গিয়েছে মুর্শিদাবাদে। রবিবার রাতে ইসলামপুর এলাকার গ্রামে হানা দিয়ে একটি দেশি বন্দুক এবং কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হয়েছেন দু’জন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ইসলামপুর উপজেলা সূত্রে জানা গিয়েছে, লুকানো সূত্রে খোজ-খবর পেয়ে রবিবার রাতেরবেলা দাড়াকাড়ি-ঘনপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই গৃহ থেকে ১টি দেশি বন্দুক এবং চার রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

Advertisement

আরও পড়ুন

Latest articles

Leave a Comment

%d bloggers like this: